আন্তর্জাতিক ও পাইকারি বাজার নিম্নমুখী হলেও খুচরায় ঊর্ধ্বমুখী চিনির দাম

খাদ্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ করতে সম্প্রতি চিনি আমদানি শুল্ক কমায় অন্তর্বর্তী সরকার।

খাদ্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ করতে সম্প্রতি চিনি আমদানি শুল্ক কমায় অন্তর্বর্তী সরকার। ফলে আমদানি খরচ কমে পাইকারি বাজারে পণ্যটির দাম নিম্নমুখী হয়েছে। এর পরও এখনো খুচরায় ঊর্ধ্বমুখী চিনির দাম।

দেশে ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জ। এখানে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতি মণ (৩৭ দশমিক ৩২ কেজি) চিনি লেনদেন হচ্ছে ৪ হাজার ২২০ থেকে ৪ হাজার ২৫০ টাকায়। এ হিসাবে প্রতি কেজি চিনির দাম প্রায় ১১৪ টাকা। মিলগেট থেকে উত্তোলন, পরিবহন খরচসহ পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতাদের মুনাফা হিসাবে খুচরায় বিক্রি হওয়ার কথা সর্বোচ্চ ১২০ টাকায়। কিন্তু বর্তমানে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি চিনি ১২৫-১৩০ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।

জানা গেছে, গত ৮ অক্টোবর পরিশোধিত ও অপরিশোধিত চিনির নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক ৩০ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এছাড়া আমদানি ও সরবরাহ বাড়াতে ১৭ অক্টোবর পরিশোধিত চিনি আমদানি শুল্কও কমায় প্রতিষ্ঠানটি।

এছাড়া শীত মৌসুমে চাহিদা সাধারণত অর্ধেকে নেমে যায়। এর পরও দেশের বাজারে পণ্যটির দাম কমেনি। বাংলাদেশ পাইকারি চিনি ডিলার সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘‌সরকার দুই দফায় শুল্ক কমিয়েছে। বিশ্ববাজারেও চিনির দাম এক বছরের সর্বনিম্নে নেমেছে। এ পরিস্থিতিতে সরকার নির্ধারিত চিনির দাম কমায়নি। তাই মিল মালিকরাও আগের দামে চিনি বেচাকেনা করছেন।’

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ২৬ ডিসেম্বরের দ্রব্যমূল্যসংক্রান্ত প্রতিবেদন বলছে, ১৭ ডিসেম্বরের পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত চিনির দাম কেজিপ্রতি ৪৭ দশমিক ৮৩ টাকায় নেমেছে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৪৮ দশমিক ৭৯ টাকা। ১৭ ডিসেম্বরের আগে বিশ্ববাজারে টনপ্রতি অপরিশোধিত চিনি ৪১৪ দশমিক ৬৯ ডলারে লেনদেন হলেও বুকিং দর টনপ্রতি কমে ৪০৬ দশমিক ৫৩ ডলারে নেমে আসে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বছরে দেশে প্রায় ২০ লাখ টন চিনির চাহিদা থাকে। এ হিসাবে প্রতি মাসে চাহিদা দাঁড়ায় গড়ে দেড় লাখ টনে। তবে শীত মৌসুমে চিনির চাহিদা এক-তৃতীয়াংশ কমে এক লাখ থেকে সোয়া এক লাখ টনে নেমে আসে। বিশ্ববাজারে দাম কমে যাওয়ার পাশাপাশি দেশে চিনি আমদানিতে (পরিশোধিত ও অপরিশোধিত) রেকর্ড শুল্ক হ্রাস হলেও বাজারে এর কোনো প্রভাব নেই। সরকার দীর্ঘদিন আগে নির্ধারণ করা চিনির দাম নতুন করে সমন্বয় না করায় তার প্রভাব বাজারে পড়ছে না।

খাতুনগঞ্জের চিনি ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এক সপ্তাহে পাকিস্তান থেকে প্রায় ২৫ হাজার টন পরিশোধিত চিনি আমদানি হয়েছে। তাছাড়া নভেম্বর থেকে দেশের সরকারি মিলগুলোর উৎপাদন মৌসুম শুরু হয়েছে। তাই অভ্যন্তরীণ সরবরাহও বেড়েছে। চলতি মৌসুমে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৫০ হাজার টন নির্ধারণ করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের কালুরঘাট এলাকার মেসার্স মালতী এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী সঞ্জয় দে বণিক বার্তাকে বলেন, ‘‌চিনি দীর্ঘদিন ধরে একই দামে বেচাকেনা হচ্ছে। শীত মৌসুমে দাম আরো কমে যাওয়ার কথা। দেশে পর্যাপ্ত চিনি সরবরাহ থাকলেও তা কমছে না।’

আরও